দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৃষ্টির দিনে মাথার ওপর ছাদ নেই, খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। দুই সন্তানকে নিয়ে এমনই অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুন। অভাবের তাড়নায় একসময় থাকার ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীহীন অবস্থায় দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন রেহানা। স্থায়ী কোনো বসতভিটা না থাকায় কখনো পরিচিতজনের বাড়িতে, আবার কখনো ভাড়া করা ছোট ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও বেশিদিন টেকেনি।
বর্তমানে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে রেলব্রিজ সংলগ্ন সরকারি জমিতে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকছেন রেহানা। স্থানীয়দের সহায়তায় সেখানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হলেও অর্থের অভাবে সেটি শেষ করতে পারেননি। ফলে খোলা জায়গাতেই রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিন কাটছে মা ও দুই সন্তানের।
স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম জানান, রেহানা কিছুদিন পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তার মাথায় চুল না দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নার সঙ্গে রেহানা জানান, ঘরের ভাড়া পরিশোধের জন্য চুল বিক্রি করেছেন তিনি।
স্থানীয় তালেব শেখ বলেন, অনেক আগেই রেহানার স্বামী দুই সন্তানসহ তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকেই চরম অভাবের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি। অসহায় পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি ঘরসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, রেহানার ঘরের বাঁশের কাঠামো তৈরি রয়েছে। টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরটি বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব। প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটির কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। থাকার ঘর নেই, খাবারেরও কষ্ট হয়। কোনো উপায় না পেয়ে ঘরের ভাড়া দিতে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’ রেহানার স্বপ্ন বড় কোনো বাড়ি নয়। সন্তানদের নিয়ে বৃষ্টি-ঝড়ের রাতে নিরাপদে থাকার মতো একটি ছোট ঘরই চান তিনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে অসহায় ওই নারী ও তার সন্তানদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি আবাসন সুবিধার আওতায় দ্রুত রেহানা ও তার দুই সন্তানের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কেএম